খনন
শব্দে বসানো বিষ তোমারই রচনা
আমি তার সংকেত চিনি
তুমিও জানো কতখানি
আগুন ও অভিপ্রেত দিয়েছে হানা
তবে কি প্রেম না, কেবলই নিঃসঙ্গতা
সবুজ পোশাক পরে
মৃদুভাষ ক্ষয় লেখে আত্মখননের
পাতা!
মেঘ
তোমার মেঘ এখান থেকে বেশি দূরে নয়
ইচ্ছে হলেই নেমে আসা যায়, ঝুঁকে যাওয়া
ইচ্ছে করলেই তুমি আমার বয়েসে একটা আবরণ
লাগিয়ে দিতে পার
আমি কি তেমন কিছুর অপেক্ষা করি? ওই শীর্ষ
মহল, ওই গাছের পাতার মতো রূপালি ছক, ঘরবাড়ি
আমার চেনা মনে হয় খুব- যেন এই কবেকার
ছেলেবেলা, শৈশব, দলবাঁধা বন্ধুর পায়ে ধুলোর জুতো
তোমার মেঘ এখান থেকে খুব দূরে নয়
বিশেষত আজকের দিনে, যখন কুয়াশা আর মেঘ
ভালবাসা নামক সূক্ষ্ম এক পথের ওপর
মোলায়েম ছড়িয়ে আছে, নরম, অবনত
শস্য
তীক্ষ্ণ ফলার মতো ফুঁড়ে আছে কেউ
এগোতে দিচ্ছে না, পিছোতেও না
বসে বসে রক্ত দেখছি
নিজের
এবং অন্যেরও একটু একটু
গোপনে গড়িয়ে যায়, ঠাণ্ডা লাগে
নিজেরই ঠোঁটে আঙুল ঠেকাই, চুপ
আমি যেমন তোমাকে বলছি না
তুমিও আমাকে না
এই একটি খেলা
এই একটি খেলা
দরজা যেমন বন্ধ আছে, থাক
নিজে নিজে ফেটে যাচ্ছ না, ব্র্যাভো
উর্বর বেদনা এই, বিষাদে
বীজ ফেলে রাখি, রাখো
তুমিও
বসে বসে একদিন শস্য দেখব
সংঘাত
কেবলই সংঘাত বাড়ির হাওয়ায়
ভেঙে যায় বিশ্বাস
অনতিদূরে আচমকা দাঁড়িয়ে থাকে কেউ
সে আমার আনন্দ নিয়ে যাবে
সে যা রেখে যাবে, তা-ই তো পৃথিবী
সুন্দর, মখমলি দুঃখের তুলোয় মোড়া
কথায় সাজানো কটু রাজনীতির মতো-
তবু আমি নিরাময় খুঁজি
দরজা খুলে তাকিয়ে দেখি পথ
বাঁক, সরলতা, জ্যোৎস্নার মায়া
ঘুমিয়ে থাকা সর্পিল আলোড়ন
যেন আমারই পৃথিবী, একবার ছুটতে
শুরু করলেই
ভেঙে যাবে পথের সৌন্দর্য, মোহ
চমৎকার
এই জীবন থেকে কবিতা নিতে নিতে
একদিন হারিয়ে যাবে ঘোড়া
ঘাস ফুরোবে না
জীবনের অনন্ত ঘাম মলমূত্র নর্দমা ফুরোবে না
ঘোড়া এই জীবন পেরিয়ে
আগুন ও সমুদ্র পেরিয়ে
কোথাও চলে যাবে একদিন
তখনও তার জামায় ঝুলবে চাবুকের দাগ
অপমান ও নিঃসঙ্গতা
জখম লেখালেখির ভিতর না-শুকোনো রক্ত
তুমি তা দেখে বলবে চমৎকার
একটা ব্যাং, সে-ও বলবে চমৎকার
হাজার হাজার ভিখিরিকবি
হাততালি দিয়ে বলে উঠবে চমৎকার চমৎকার

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন