বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০

কবিতা: সুমন দিন্ডা

 



ধ্রুবক


সবকিছু বলা সম্ভব হয়না

কিছু কিছু কথা ধোঁয়া হয়ে হারিয়ে যায়, 

মনের গোছানো ভাবের ভেতর উঁকি মারে

এলোমেলো স্বপ্নের বেহিসেবী আগুন।

পোড়া বুকের দাগ কেউ বুঝতে পারে না,

নিজের মধ্যে গন্ধটা জেগে থাকে

যতক্ষণ না কোনো মশাল জ্বলে ওঠে 

আর পুড়ে যায় আপোশ করা দেহ।

কথাও এক একটা আগুন হতে পারে 

নিজে না জ্বললেও অন্যকে জ্বালাতে তার আগ্রহ। 

তবে ধোঁয়া কিন্তু উভগামী, 

চোখের জলে দুজনকেই ভেজায়।

এই আগুন, এই ধোঁয়া, সবই এখানে স্থির

আমরা কেবল চলরাশি হয়ে

বদলে যাই সময়ের নির্দেশে।

তুমি আর আমি মিলে আমরা হয়ে ওঠা 

কেবল বইয়ের পাতায় থেকে যায়,

কিছুই বলা হয়ে ওঠে না তোমায়,

পুড়তে পুড়তে মেঘও বৃষ্টির গা ঘেঁষে চলে যায়।


 কবর


রাত বিলুপ্ত হতে হতে

ক্রমশ পথ গম্ভীর হয়ে ওঠে, 

মাটি আর পিচের আলিঙ্গনে 

ছুটে চলে কুয়াশাজড়ানো স্বপ্নের হাইওয়ে। 

নিঝুম থেকে ফিরে আসা জনজীবন 

ধোঁয়ার ভেতর বেঁচে ওঠে মোড়ের বাজারে।

গাড়ির হর্ণ, দোকানির চিৎকার - সবকিছু হাতে নিয়ে

দূরে সরে থাকা পেছনের মাঠ আরো বেশি রুগ্ন।

আমার সমস্ত অলসতার ভেতর 

আসন্ন ফসলের নৌ-মহড়া চলতে থাকে, 

একবার তোমাকে আর একবার ওই রাতকে

কেমন যেন শত্রু করে তুলি, 

সে কি কেবল জীবিত থাকার ভয়? 

আমার স্বাচ্ছন্দ্য এখন শীতঘুম ঘর, 

কেন বারবার জাগিয়ে তোলে সময়ের বারান্দা? 


এসো, অনন্ত রাতে আমাকে ডুবিয়ে রেখে

নিভিয়ে দাও সকল অর্থহীন আলো।


ছবি: বিধান দেবের তৈরি ভাস্কর্য


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন