শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০

জন কিটস।। অনুবাদ: দেবাশিস দাশ


 


১.

ও একাকিত্ব! তোমারই সঙ্গে যদি-বা থাকতে হয়,
যেন তা না হয় আঁধার-জড়ানো জীর্ণ বাড়ির মাপে
জুবুথুবু কোনও স্তূপের মধ্যে। চলো চড়ি খাড়া ধাপে,—
প্রকৃতির মানমন্দিরে— ছোট উপত্যকাটিময়
ফুলে-ছাওয়া ঢাল, স্ফটিক-ফুল্ল তার নদীসঞ্চয়
মনে হতে পারে খোলা বিস্তার। ডালপালা-মণ্ডপে
আগলাতে দাও তোমার জাগর, শিয়ালকাঁটার ঝোপে
যেখানে হরিণ লাফ দিলে বুনো মৌমাছি পাবে ভয়।

কিন্তু, যদিও তোমার সঙ্গে হাসিখুশি এত দৃশ্য
তাড়িয়ে ফিরব, তবু নিষ্পাপ একটি আলাপী মন
পরিমার্জিত চিন্তার ছবি করলে উচ্চারণ
সে হবে আমার আত্মার সুখ, বিশাল মানব-বিশ্বে
তার থেকে বড় আনন্দ নেই নির্ঘাত; নির্জন
ডেরায় তোমার যদি বাঁধে দুটি সুজন সত্তা বিশ্বাস।

[মূল রচনা: ৫.৫.১৮১৬, সাময়িকপত্রে প্রথম প্রকাশিত কবিতা, দ্য একজ়ামিনার]

O Solitude! if I must with thee dwell,
Let it not be among the jumbled heap
Of murky buildings; climb with me the steep,—
Nature’s observatory—whence the dell,
Its flowery slopes, its river’s crystal swell,
May seem a span; let me thy vigils keep
’Mongst boughs pavillion’d, where the deer’s swift leap
Startles the wild bee from the fox-glove bell.
But though I’ll gladly trace these scenes with thee,
Yet the sweet converse of an innocent mind,
Whose words are images of thoughts refin’d,
Is my soul’s pleasure; and it sure must be
Almost the highest bliss of human-kind,
When to thy haunts two kindred spirits flee.

২. 

উজ্জ্বল নক্ষত্র! আমি তোমার মতোই যদি হতে পারতাম অবিচল—
একার ঐশ্বর্য নিয়ে রাত্তিরের বহু ঊর্ধ্বে ঝুলে থেকে হু-হু শূন্যতায়,
নিসর্গের মগ্নতায় ধৈর্যবান ঘুমহারা শ্রমণের মতো অবিকল
চাই না থাকতে পড়ে, শাশ্বত পল্লব খুলে দু'চোখের উদাসী প্রেক্ষায়—
পৃথিবীর মানবীয় কূলে-কূলে ঘুরে ঘুরে পুরুত-সদৃশ নিষ্ঠাব্রতে
চলেছে পবিত্র বারি ছিটোতে-ছিটোতে জলরাশি— সেই দৃশ্যের জানালা
খুলে ধরে নয়, কিংবা অন্যত্র কোথাও কোনও তৃণাঞ্চল এবং পর্বতে
নতুন নরম কোনও ঝরে-যাওয়া হিমের মুখোশ জুড়ে দৃষ্টিটুকু ঢালা—

না, তেমন নয় ঠিক— তবু আজও অবিচল, অপরিবর্তনযোগ্য আজও,
রূপশালী আমার প্রিয়ার সদ্য পেকে-ওঠা দু'টি বুকে বালিশের ওমে
শুয়ে-শুয়ে ছুঁতে চাওয়া অনুভব— নরম উৎরাই আর স্ফীতি যদি বাজে,
চিরকাল, চিরকাল জেগে থেকে বেঁচে থাকা মিষ্টি এক অশান্তির ধুমে,
এতটুকু চাই আমি, যেন শুনি বারবার স্নিগ্ধ-টানা প্রিয়ার প্রশ্বাস
এবং শাশ্বত বাঁচি,— নতুবা মৃত্যুর কোলে ঢলে যাব, এতটুকু শুধু অভিলাষ।

[১৮১৮]

Bright star! would I were steadfast as thou art—
Not in lone splendour hung aloft the night,
And watching, with eternal lids apart,
Like Nature’s patient sleepless Eremite,
The moving waters at their priestlike task
Of pure ablution round earth’s human shores,
Or gazing on the new soft fallen mask
Of snow upon the mountains and the moors—
No—yet still steadfast, still unchangeable,
Pillow’d upon my fair love’s ripening breast,
To feel for ever its soft fall and swell,
Awake for ever in a sweet unrest,
Still, still to hear her tender-taken breath,
And so live ever—or else swoon to death.

৩.

ঘন-হয়ে-আসা আঁধার ছাড়িয়ে রুপোলি পায়রা যেরকম
উঠে যায় আর ফুঁড়ে ছুটে যায় পুবের আলোর ভেতরে,
কেবল সাচ্চা আনন্দ তার ডানাকে ভাসিয়ে ধরে,
তেমনি তোমার আত্মা পেয়েছে উত্তরে নিষ্ক্রম,
যে-দেশে শান্তি আর ভালবাসা ঘর বাঁধে হরদম;
নক্ষত্রের রশ্মিমালার নিপুণ মুকুট প'রে
সুখী আত্মারা যেখানে তাদের মহিম শয্যাঘরে
বিপুল সুখের স্বাদ ভোগ করে, তেমন নজির কম।

এমনকী যারা দারুণ স্বর্গ আরও উচ্ছ্বাসে ভরে নেয়,
তুমি যোগ দিলে গায়কদলের সেই অমৃত চারণে
সুরেলা আলোয়, অথবা পরম পিতার চরম কামনায়
বাতাস ফাটিয়ে ভিন-ঠিকানার একমনা উৎসারণে
পবিত্র কোনও বার্তা পাঠাতে— এরচে' মস্তি জানা নেই!
দুঃখের লেশ আমাদের সুখ মাটি করবে কী-কারণে?

[১৮১৪, পিতামহীর মৃত্যুতে লেখা এলিজি, প্রকাশ: ১৮১৬]


As from the darkening gloom a silver dove
Upsoars, and darts into the eastern light,
On pinions that nought moves but pure delight,
So fled thy soul into the realms above,
Regions of peace and everlasting love;
Where happy spirits, crown'd with circlets bright
Of starry beam, and gloriously bedight,
Taste the high joy none but the blest can prove.
There thou or joinest the immortal quire
In melodies that even heaven fair
Fill with superior bliss, or, at desire,
Of the omnipotent Father, cleav'st the air
On holy message sent -- What pleasure's higher?
Wherefore does any grief our joy impair?



জন কিটস (অক্টোবর ৩১, ১৭৯৫-ফেব্রুয়ারি ২৩, ১৮২১):  কিটস ইংরেজি সাহিত্যের একজন সর্বপরিচিত রোম্যান্টিক কবি। লর্ড বায়রন ও পার্সি বিশি শেলির সাথে সাথে তিনিও ছিলেন দ্বিতীয় প্রজন্মের রোমান্টিক কবিদের একজন। তার মৃত্যুর মাত্র চার বছর আগে তার সৃষ্টিগুলো প্রকাশিত হয়। তৎকালীন সমালোচকদের দৃষ্টিতে তার কবিতা খুব একটা উচ্চ মর্যাদা পায়নি। তার মৃত্যুর পর তার কবিতাগুলো সঠিক মূল্যায়ন পেতে শুরু করে এবং উনিশ শতকের শেষ দিকে তিনি অন্যতম জনপ্রিয় ইংলিশ কবির স্বীকৃতি পান। পরবর্তীকালের অসংখ্য কবি ও সাহিত্যিকের ওপর তার প্রভাব দেখতে পাওয়া যায়। হোর্হে লুইস বোর্হেসের মতে, কিটসের লেখার সাথে প্রথম পরিচয় তার সাহিত্যিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। (উইকিপেডিয়া)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন