কথার খেলাপি দিনে
এ-তো আবিষ্কার নয়, তেলেনাপোতার অভিপ্রায়
ফিরে ফিরে উঁকি মারে স্বপ্নে স্বপ্নে দোলনার বেলা
পাক খেতে খেতে দেখি তারও কোনও লাজলজ্জা নাই
এভাবেও জমতে পারে বয়ঃসন্ধির কোনও খেলা
পাহাড়ি পথের কথা, আশ্বাস গুছিয়ে রাখি তূণে
মৃত্তিকার অগণন কৃতজ্ঞতা কবরের মতো
দেয়াল উঁচিয়ে ধরে, কান পচে কথা শুনে শুনে
দেয়াল উঁচিয়ে ধরে, শুধু শূন্য— দেয়ালেরা যত
গুমট, অন্ধকার— ছায়া নয়, আবিষ্কার নল
প্রীতির সম্ভ্রম নিয়ে বেঁচে থাকে, যত্নেরাও বাঁচে
ফিরে ফিরে উঁকি মারে শনি নয় মঙ্গলের ছল
কথার খেলাপি দিনে প্রেমেন মিত্তিরই থাকে কাছে
দগ্ধ-জবান
প্রেতের শ্বাস এমনি কি আর গরম হয়
আগুনে পুড়ে মরে
রাতের পিলে চমকে চমকে জাগায় ভয়
কিলো ওজন দরে !
অনেক মন, যেমন পারে রাতের ট্রেন
শব্দের হুইসেলে,
হাতছানিটাও অলৌকিক বোঝায় ব্রেন
আগের ট্রেন গেলে—
পরের ট্রেনে শব্দ ওঠে, কমন লয়
গড়ায়, খবর করে,
প্রেতের শ্বাস এমনি কি আর গরম হয়
আগুনে পুড়ে মরে !
কালপেঁচা
কালপেঁচারা নামছে দেখো হেসে
বৃদ্ধ বালিশ-তোষক ভালোবেসে
নখরদাগ স্পষ্ট হলে মুখে
ফিরব আবার আত্মার সম্মুখে
আত্মা যদি মনে করে, আরে
ইচ্ছেমতো খাঁচাও ছাড়তে পারে
পাতায় পাতায় সমাধি সুখ লিখে
ভরিয়ে দেব আত্মগ্লানিটিকে
বদলে দেব সমাজ তোমার মুখ
মোড়ের মাথায় শ্রাদ্ধের তমসুক
আর্ত ওরা বিবেক বিলোয় খামে
মনের মধ্যে কালপেঁচারাই নামে
ধারণা ফ্যান্টাসি
জোর করে টানার মতো দাবিদার তুমি কি চিনেছ ?
তুমি কি চিনেছ বৎস, ঐতিহ্যের সারাৎসার বারে
দাবিটুকু গেঁথে রেখে যা যা পারো সব তুমি বেচো
অহং মেশে না রক্তে, বড় দোষ রক্তের কালারে
কালার তো জন্মগত, জিনগত ত্রুটি নিয়ে আসে
হুজুগে মাতে না প্রেম, দেশ যদি ক্লেম করে তাও
পাশের বাড়ির তুমি অন্যায় বসিয়ে রাখো পাশে
এখানে চলার পথ, অন্যদিকে যদি পা-বাড়াও
হঠাৎ পাল্টে যায় শ্বাসবায়ু, পাল্টায় স্বদেশ
পাল্টায় তোমার মুখে লেগে থাকা শুষ্কতার হাসি
আমি তো বুঝি না বৎস কেনো এত চালাকির কেস ?
কীভাবে যে জন্ম নেয় স্কিৎসয়েড, ধারণা ফ্যান্টাসি
লেখালেখি
রোদ্দুরের চাষ দেখে থমকে যাওয়া ঘাসে, আমার চেতনা
বিরহ-প্রলাপ বকে, বিরহের দুরন্ত প্রমিতা
জটিল-জটিলতর ধাঁধারূপ প্রশ্রয় নিয়েছে ।
গতজন্মের এই পাতার আড়াল
আমাকে আড়ালতর আরও এক শয্যায় টেনেছে,
যে-বাঁধনে খসে গেছে পিতা...!
টানটান বেঁধে ফেলি প্রলাপের লাশ
শতভাগীরথীর কিনারে,
জ্বালাতে দেবে না— তবু সাজিয়েছি কুলুপের কাঠ,
ভেঙে যাবে ? খসে পড়বে, প্রান্তরের চিতা ?
পড়ুক তো দেখি !
রোদ্দুরের বাণী মেখে, নামাবলী নিয়ে
পড়ে থাকে মাধুর্যের সব লেখালেখি !
কামনা
প্রসাদের মজ্জা নিয়ে ছুটো
ছুটে যাওয়া লজ্জার আঘাত
উপচে আসে বালিঘাই থেকে
চাপচাপ ঝরে পড়া রাত
সাদা কুয়াশায় ঢাকা,
কুয়াশার অধিক ফসল
রাতেরাতে জ্বর আসে
মৃতে জাগে কামনা প্রবল,
কামনা— অধিকমাত্রা, রাত্রিঘুম চাদরে চড়ানো
সিদ্ধেশ্বরীর কৃপা কাম থেকে সতত প্রমাণও
জেগে উঠে চরতে যায় মাঠে
কামনা— প্রবলতর, শুতে চায় না খাটে !
প্রসাদের অনিত্য প্রহরে
আপামর রাস্তার প্রমাণ
আপামর লজ্জায় মাখানো
মাঝখান দিয়ে যায় জল
আর যায় দানো ।
দানো গিরগিটির থেকে লজ্জাহীন রঙটুকু নিয়ে
কেল্লায় পাঠিয়ে
ইতিহাস সৃষ্টি হচ্ছে— রঙরাগ ভেজে দিচ্ছে জ্বরে
প্রসাদের অনিত্য প্রহরে ।
প্রথার প্রণালী
প্রথার আড়ালে থাকো তুমি
লজ্জা দিয়ে ঢেকে রাখি তোমা
একচিলতে পৃথিবীর ভূমি
ফুঁৎকারে উড়িয়ে দেবে সোমা !
অথচ লজ্জার স্তুপ ঠেলে
বিন্দু-বিন্দু পাহাড়ও লুকায়
পারস্পর্যে জেগে উঠে গেলে
জনতার এক-একটি ঘায়ে !
কোথায় সোমার প্রতিরূপ
চেপে আসে সাব-অলটার্ন
সকলেই একপ্রকার চুপ
ফুঁৎকারে উড়িয়ে দেবে প্রাণ !
যেখানে আরাধ্য জনগণ
আজ দেখি ধূ ধূ করছে বালি
প্রথার আড়ালে তাকে খুঁজি
স্থিরচিত্র — প্রথার প্রণালী !
দোষ
গালে সাদা কুঁকড়ে যাওয়া দাগ
মুখে রোশ
এরপরের পরিত্রাণ — রোদের আক্রোশ
সূর্যকে আড়াল করে যেই নেমে আসি ফাঁকা ঘরে
গরম আদরে
তুমিও উঠলে তেতে — ফোঁস
মাথার উপর থেকে অশনির ছ'টা নিয়ে
নেমে এল হালকা দু'টো দোষ !
প্রিয় রোমার ও-মুখ
ঘাসের উপরে এসে ঝরে পড়ছে বিন্দু-বিন্দু রোদ
পিঠে বালি উপচে পড়া সমুদ্রের ছাঁচ
উপরে সূর্যের কড়া আঁচ
ক্ষয়াটে হয়েছে এসে বিকেলের সিন্ধু-সিন্ধু ঘাসে।
এসময় প্রিয়লব্ধ রোমার ও-মুখ SMS-এ পাঠিয়েছি
আকাশে-আকাশে ।
ছবি : বিধান দেব
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন