শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২১

গুচ্ছ কবিতা ।। নীলোৎপল জানা


 আজারবাইযান থেকে…  

                                                                

তোমার চাওয়ার ওপর আমার আসা নির্ভর করে না…

 

রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ফিরি ঠিকানাহীন ভাবে 

এক সময় আমার ঠিকানা ছিলে তুমি, 

সেই তুমি বিকেলের রোদের মতো শীতল---,

নখের আঁচড়েও তুমি নিরুত্তর 

প্রতিটি নিশ্বাসে যাকে পাশে পেতাম 

তার এমন নিরুপদ্রপ ; পথ ভোলা পথিক করেছে আমায়।


আমি ঘুরে চলেছি নাগাসাকি থেকে গাঙুড়ের জল হয়ে

 আলাস্কার গ্রামে গ্রামে। বাঁশ পাতার মতো ঘুরে ফিরে 

খুঁজে নেবো তোমায়,তোমার চাওয়ায় ,আমার আসা নির্ভর করেনা ;

আমি আজারবাইযান থেকে এখনো পথে পথে ঘুরে চলেছি…


আলো

কতগুলো নক্ষত্র পতন হয়ে গেল আমার মাথার উপর ।


বুঝবো কী বুঝবো না কোনো দিন জানি না…

তবুও যেটুকু বুঝেছি তাও এজীবনে কম নয়,

মথার ভিতর সব এলোমেলো হয়ে যায় বুঝে ওঠার আগেই ।

এ নক্ষত্রগুলোর একদিন শক্তিশালী আলোছিল

ভাষাও ছিল;মুখ ছিল ,চোখ ছিল--

তবুও থাকতে পারেনি অক্ষত,অমর

একদিন পড়তেই হল খাদে ,মৃত্যুর মুখে


সব থেকেও যারা সর্বহারা তাদের একটি কথাই

আজ মহা মূল্যবান,পৃথিবীর কাছে

কারণ তারা যে মহামানব, নক্ষত্র…।


ঔ ফুলের মতো চুল


 আয়োজন সম্পূর্ণ ,শুধু তুমি আসবে বলে

 অপেক্ষায় সারা দিন রাত…

গাছের সবুজ পাতায় তোমার মুখ,

ঔ ফুলের মতো মাথার চুল,

বিহান বেলায় তোমাকেই দেখি

কলা পতার সবুজ ডগায়।


তুমি আসবে বলে দুইবেলা ধরে ঘর সাজিয়েছি

 তোমার পছন্দ মতো ঘরের রঙ, ঠাকুর ঘর ,বারান্দার ব্যালকনি;

সবকিছুই তোমার মতো

শুধু তুমি আসবে বলে…   


কালপুরুষের কান্না


আকাশের দিকে তাকাতেই আটকে গেল চোখ।


কালপুরুষের চিত্র যেন আমার পিতা,পিতামহ,ঠাম্মা, দিম্মা...

চোখ থেকে ঝরে পড়ছে হিরের টুকরোর মতো বিন্দু বিন্দু জল 

আমি যখন হেঁটে যাই ভুবন ডাঙার মাঠ দিয়ে… 

তখন দেখা হয় রবি ঠাকুর,অবন ঠাকুর আর সাঁওতাল মেয়েটির সাথে

যে রবি ঠাকুরের নায়কের ক্যামেলিয়া মাথায় পরেছিল; 

এরা সকলেই উজ্জ্বল আজও আমার চোখে,

তবে কেন কান্না আমার প্রিয়জনদের?


এ কান্না অন্তরে থাকে যুগযুগ ধরে

অনেক অনেক ভালোবাসার মধ্যে থাকে অনেক গভীর অন্ধকার

সব অন্ধকারের হদিস পায় না সকলে বলে 

মহাপৃথিবীর কান্না ঝরে পড়ে পৃথিবীর পরে।


আসলে বোধ আর বুদ্ধির সমন্বয় হলেই স্বপ্নে ফুটে ওঠে পদ্ম ফুল।


ছবি : বিধান দেব 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন