মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

গুচ্ছ কবিতা : অবশেষ দাস


 


যুগলবন্দী


তোমার জন্য এই অরণ্যে পুষ্পে পুষ্পে জাগি

গদ্যে বাঁধা জীবন শুধু তোমার অনুরাগী।


তুমিই তো সেই নির্ভরতা এ সংসারের মাঝে

সারাজীবন পা রেখেছি আন্দাজে আন্দাজে।


কুসুম কুসুম স্বপ্ন মাঝে অজস্র বেল কাঁটা

হা-হুতাশের অন্ধকারে একলা কেবল হাঁটা।


হঠাৎ যেন ভালোবাসার বৃষ্টি হয়ে এলে

বর্ণহীনের পর্ণগৃহে কৈশোরের বিকেলে।


তোমায় পেয়ে পদ্য লিখি, বসন্তে হই রাঙা

গদ্যময়ের পদ্য খাতায় লাল পলাশের ডাঙা।  


পদ্য খাতায় বনজ্যোৎস্না, রবীন্দ্রনাথ গানে

মধুর বিবাদ, খুনসুটি আর প্রিয় অভিমানে।


একলা হয়ে দূর সীমানায় যখন ভাবি কিছু

মন চলে যায় ঘরের থেকে বাউল মনের পিছু।


মন বসে না, এ সংসারে, ডানা ঝাপটায় পাখি

মন-পাখিকে আগল দিয়ে কোথায় ধরে রাখি।


সংসারে মন থাকতে নারাজ, ছুটির জন্যে কাঁদে

সংসার দেখি মন্ত্র বলে মায়ার সুতোয় বাঁধে।


হঠাৎ দেখি, তোমার দুহাত ভালোবাসার বোধে

ঠিক তখনই আটকে তো যাই, এ সংসারের রোদে।


দেহের বাইরে তুমিই যেন আমার আর এক দেহ

সন্ধ্যাপ্রদীপ, তুলসীতলা, অজস্র সন্দেহ।


ভালোবাসার কুঞ্জ ছায়া তোমার চতুর্দিকে

মেঘছায়াতে বাঁচার ভাষা, সত্যি গেলাম শিখে।


সকল ভালো-মন্দ লাগায় আর কত কী ভাববো ?

তুমিই প্রিয়া তুমিই জায়া, জীবন রাগের কাব্য।



পালকের গান 



শিউলি ফুলের মতো নরম আদর 

তোমার শিশিরে ঠোঁটে বিছিয়ে দেব

সারাবেলা-সারাক্ষণ সারাটা জীবন 


সজনে ফুলের মতো খুঁটে খুঁটে রেখে দেব

তোমার শরীর থেকে উঠে আসা

শ্রাবণের গান..


শিশিরে অভিমান ভরা নরম সন্ধ্যার কাছে

সবিনয় গল্পপাঠ সেরে তোমার মানসগঙ্গার জলে

সারারাত নেভাবো আগুন

দলবৃত্তে ....


নক্ষত্রের আলো মেখে ঘুমন্ত তোমাকে দেখে

মায়া ভরা সজল দুচোখে যেন 

ব্যথা জেগে ওঠে।

পৃথিবীর সব প্রেম, সব ভালোবাসা 

তোমাকে ভালোবেসে উজাড় হয়েছে।


তোমার কাজল চোখে ভোর এসে 

দোয়েলের মতো ডেকে যদি ওঠে

ঘুমন্ত তোমাকেই চুম্বনে রেখে দেব

উঠানের মতো টলটলে ভালোবাসাময় বুকের ওপর।


অতসী ফুলের মতো উষ্ণতা

ঝরে ঝরে যায় অতলান্তিকে...


নদী


ভাল আছ, ভালবাসা 

অনন্ত স্রোত, আপনজনেষু


কতদিন বাদে আজ এসেছি, একাকী

সম্পূর্ণ তোমার কাছে।


তোমার জন্যে আছে, প্রিয় উপহার

রাজস্ব নয়, হৃদয় উজাড় হওয়া 

আধশোয়া রোদের বিছানাতে শ্রাবণের দুধেল‌ মেঘ, ঘুঙুরের হাওয়া


তোমার আমার মাঝে এক সুতো ব্যবধান নেই।

জোড়া শালিকের হৃদয়ের মত সংলগ্ন


ছাতিমের আটপৌরে শাড়ির আঁচলে ওঠে চড়ুইয়ের কোজাগরী চাঁদ, অজস্র গাঙচিল ওড়ে

বুভুক্ষু পাঁজরের হাড়ে চর থেকে চরাচর, বট-অশ্বত্থের ছায়া এসে বসে।


এপার ওপার ভাঙি, আমরা দুজন

পরপারে অভিসার নেই, ইহকাল দিয়েছি, তোমার


আপনজনেষু , নদী


ছবি : বিধান দেব 




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন