নীল হরিতকী
অবশেষে লিখে রাখো কার জাগতিক বিন্দুর ক্রোমোজোম
তাই বলে পরিতক্ত নৌকোর নিচে ডুব সাঁতার দিতে দিতে
আমি কি কখনো খুঁজে পাবো না চোরাবালিতে হারিয়ে যাওয়া
রৌদ্রস্নাত পাঠশালা কিংবা নিখুঁত সম্পর্কের নামাবলী
ভাঙা ভাঙা ডালেডালে এখনো ও বেজে চলেছে অষ্টম গর্ভের অন্ধকার
অবশেষে তুমি সেই অন্ধকারের উচ্চারণ না হতে পেরে
ঝাপসা চশমার ধুলোয় মেখে দিলে নৈব্যক্তিক সুড়সুড়ি
একবার বল নীল ঈশ্বরের শৈশব তোমার লাঙলের ফলায়
ঠিক কতখানি তীব্র ছিল কিংবা মরমী নুপুরের একক পাহারাদার
অবশেষে তুমি ধমনী টুকু নিলে হাড় মাংস পড়ে রইল বস্তিছায়ায়
সেই ক্ষতের ভেতরে দ্রুতগামী আক্কেল দাঁত গুমড়ে ওঠা স্বপ্ন
চিবাতে চিবাতে আজও সংরক্ষিত করে রেখেছে তোমার জন্মান্তর
আমাদের পতঙ্গ শ্বাস আমাদের কৃষ্ণচূড়া পরাগ আমাদের ভুল নামতা
সব সব ভেসে যাচ্ছে থ্যাতলানো জলে প্লিজ একবার রক্ত বমি হোক
দেখি কোন নীলপক্ষে হরিতকী চাঁদের বিভাজন উৎকণ্ঠিত
নিঃসঙ্গতার ঢেউ
তাৎক্ষণিক বৃষ্টি শিরার ভেতর জন্ম দিল যে শয়তান
তুমি জানো তার বিক্ষিপ্ত ঋতুর বাইরে নির্বাচিত তীক্ষ্ণস্বর
কার দেহ ফুঁড়ে বিস্তৃত অঙ্কুরে সার্থক করেছে নীরবতা
উদ্ভিদের শরীরে থাকা ফোঁটা ফোঁটা কাহিনী নিরুপায় জল
অন্ত্যমিলের প্রস্তাবে মেঘের ডানায় খুলে রাখে অনুরাগ
পাশাপাশি বিশ্বাস ও ভীতি
আশ্চর্যজনকভাবে খুঁজে বেড়ায় নিদ্রিত যোনির বৈভব
ভোরের আকাশ থেকে নেমে আসে
অসহিষ্ণু ধুলোর দুর্বিনীত আচরণ
সেখানেই নিখুঁত কথোপকথনের ফাঁক গলে
চৈতন্যগামী ছায়ায় বিগলিত মৃগ চর্চার সম্ভ্রম
সৃজনের জটিলতা ভেঙে কাদের সারল্য উন্মুক্ত করে
উদ্ভিদের অবিন্যস্ত পাতায় এইসব লজ্জার সমীকরণ
সহস্র পাক খেয়ে তোমারি অনন্ত বৃন্তে
দেখেছি ধূসর দিগন্তের প্রতিহত স্বরলিপি
তুমি জানো আসন্ন সমতলে এই জল কাকে উৎসর্গ করে
শীতল চুম্বন রেখেছে বৃষ্টি রাঙানো মগ্ন শাখায়
নিসর্গ তারা
গুহাচিত্র থেকে একটি তারা উড়ে গিয়ে বসেছে শীর্ণ ডালে
তার তর্জনীতে প্যাঁচানো জন্মান্তরের ধোঁয়া
এই সময়ের ছেলেমেয়েরা গাছ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে গুহামুখে
তীব্র বাতাসে কেঁপে উঠছে তাদের গোপনতা
স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে কেন যে ভেঙে যায় আত্মক্ষরণের মহোৎসব
বাঁশবন চিরে যতবার জ্যোৎস্না আসে
ততোবারই বারকোশের নিভৃত উত্তাপে মোম গলে
বন্ধ হয়ে যায় নিহত সম্ভ্রমের শরীরী স্রোত
সারারাত ধরে উড়ে যাওয়া তারাটির রেণু
স্পর্শহীন জলের নিঃশব্দ উঠোনে নতজানু
এইখানে একদিন মৃত্যুভয় তেঁতুল গাছ থেকে নেমে
চূর্ণ করেছিল শিল্পানুগ ক্রীড়ার রদ্দুর
বিপন্ন জ্বরের ক্রোধ দ্বিধাথরথর দিগন্তে ঘূর্ণি
প্রকৃতির সম্মতিতে কারা যে ভাবো
গুহাটির চৌহদ্দি জুড়ে সমুদ্রমোহ কিন্তু
রাতের গর্ভপাত চিনে রাখে উলঙ্গ তারাটি
কোন দৃশ্য নয়
মুহূর্তের স্তব্ধ সর্তকতা
নির্বোধের রাস্তামুখী আধো-অন্ধকার গ্রাস করে ফেলে তারাটিকে
ছবি : বিধান দেব
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন