▼
বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১
সম্পাদকের কথা
আমাদের যাবতীয় অসহায়তার মধ্যে আবারও শারদীয় উৎসব এসে গেল। যাকে কেন্দ্র করে এই উৎসব সেই দেবী দুর্গা আমাদের মধ্যে সাহসিকতা ও আত্মবিশ্বাসের জন্ম দেন। অশুভ শক্তি আপাত দৃষ্টিতে ভয়ঙ্কর হলেও তা কিন্তু সত্য, শিব ও সুন্দরকে ভয় পায়। মানব সভ্যতার কোনও এক ক্ষণে এই চেতনার দ্বারা ঋদ্ধ হয়েছিলেন আমাদের পূর্বজরা। প্রকৃতিতে ভালো-মন্দ, সৎ-অসৎ সব মিলেমিশে থাকে। আলোর অভাব-ই অন্ধকার, সৎ-এর অভাব-ই অসৎ এটুকু বুঝতে হবে। বিভেদ কোনও কিছুতেই দেখি না। প্রতি- প্রত্যেকের মধ্যে মিলনের আকুতিই দেখি। অবস্থানগত সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করেই আমাদের উন্নত হতে হয়। আবার অবস্থানে অটুট থেকে উন্নতিকে সেখানে আহ্বান করলে সভ্যতা পেছনে হাঁটে। আমাদের বেশিরভাগ উৎসব-ই ধর্মকেন্দ্রিক। আমাদের সৃজনসত্তাও মূলতঃ ধর্মাশ্রয়ী। মানব সংস্কৃতির এই জীবনবৃদ্ধিগত কৌশল আমরা পূর্বজদের কাছ থেকে পেয়েছি। তাই এই উৎসবে আমরা আমাদের সেরাটা দিতে চাই। চেষ্টা করি। আর করি বলেই কিছুটা এগোই। সাহিত্যের বেলাভূমির সমস্ত লেখক-পাঠক-শুভানুধ্যায়ীদের উৎসবের আগাম শুভেচ্ছা জানাই। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা সবাই হয়তো সেভাবে ভালো নেই। কিন্তু পরিস্থিতিকে স্বীকার করে বেঁচে থাকাটাই এখন আমাদের কাছে ধর্ম। প্রতিবেশীদের সুখ-দুঃখের সামান্যতম অংশভাগী হলেও তা আমাদের অন্তরকে শুদ্ধ করবে। ভালো সাহিত্য পাঠ, ভালো গান শোনা, ভালো পোশাক পরা বা খাওয়া-দাওয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনও এই উৎসবের অঙ্গ হয়ে উঠুক। মানুষ আমাদের সম্পদ। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও আত্মগরিমাকে অধিক প্রাধান্য দিতে গিয়ে নিজের প্রতিচ্ছায়াকে যেন ভুলে না যাই।
''ভালো সাহিত্য পাঠ, ভালো গান শোনা, ভালো পোশাক পরা বা খাওয়া-দাওয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনও এই উৎসবের অঙ্গ হয়ে উঠুক।'' - এই অতিমারী কবলিত সময়ে অসাধারণ কথা লিখেছ ।
উত্তরমুছুন