ঈশ্বর : একটি ধারণা
জলের উপর ভাসে একলা হাঁস |
তার অনেক উপরে সূর্যালোক
ক্রমে ছায়া নয় হংসবিম্ব জলে ধরা,
উত্তর আকাশে দৃষ্টি রেখে ধীর
আরও স্থির হয়ে আসে তার গতি
স্থির হয় জলবিম্বের প্রতীকে;
দখিনা হাওয়ার স্পর্শে ক্রমে দুরে যেতে যেতে
হংসমায়ায় নিশ্চল জলকাব্য নড়ে ওঠে ----
এই পূর্ণতার কোলাহলে আমাদের
একক ঐশ্বরিক বোধ জাগে|
বোধিবৃক্ষের নিচে
বোধিবৃক্ষের নিচে বসেছে বালক |
পিছনে পিছনে ছায়ারাও এসে জুটেছে তার পাশে
সংসার ধর্ম বড় মায়াময়
কেবল মায়ের মত কাছে টানে!
বালক কিন্তু স্থির নিশ্চল ভাবে বসে থাকে
মায়ের আঁচলের গভীরতার বিপরীতে
সে স্বাধীন পুরুষ হয়ে ধ্যানস্থ হলো ----
ধ্যানে যাতে বিঘ্ন না ঘটে প্রকৃতি সজাগ হয়ে
আলো দেয়, ডালপালায় স্নেহ করে
হওয়ায় উড়িয়ে আনে হাজার বছরের ভৃগুকথা:
নিজের ভিতর আরও শূন্যে মিলিয়ে যেতে যেতে
বালক অনুভব করে মায়ের টান ক্রমশ আলগা হয়ে আসে|
মহাশূন্যে মহাকবিতায় আলোহাওয়াবাতাস কিছু নেই
কেবল ছায়া ছায়া ঘোর;
মাতৃস্নেহে পালিত বালক এককে হাঁপিয়ে ওঠে
অসহনীয় নিজেকে প্রবোধ দিয়ে ধ্যানমুদ্রা ভঙ্গ করে
প্রথম ভোরের মতো চোখ খুলে
বালকের ধারণা --- বোধি চরাচরে একক বলে কিছু নেই,
ইহজন্মে এই অলৌকিক শিক্ষার আশায়
পশুপাখি সমেত হাজির গোটা এক মানব প্রজাতি|
মাহাত বন্ধুর বিয়ে
মাহাত বন্ধুর বিয়ে| পুরোহিতহীন শরৎ রাতের মতো
শীতল বিবাহ পদ্ধতি ; মুগকলাইয়ের প্রদীপ
মৌন উচ্চারণ যেন পারস্পরিক বোঝাপড়ার সারাৎসার !
অদূরে ক্ষয়াটে মলাটের চাঁদ
শতচ্ছিন্ন মেঘ তেমনই নির্বিকার ,
ঘুমন্ত মাদুরের উপর ঘুমন্ত দম্পতি
কারুশালার পাঠে কিশোর হরগৌরী:
ছায়াময় অন্তরাল থেকে দয়া নেমে আসে
স্নেহাশিস আরও ---- ; পূর্ণতম আগুনের সাক্ষাতে
আমৃত্যু অপরের সাক্ষী হয়ে রইলো|
প্রতীতি
কিছুদূর হেঁটে চলি
হেঁটে চলে প্রতিরূপ ছায়া আমার :
আলোর বিনাশে অন্ধকার ------ তমসায় ছায়া নেই
অথবা আমি নিজেই ছায়ার প্রতিভূ হয়ে সর্বজ্ঞ
নিরবতা রচনা করি |
কখনও হেঁটে চলি ইহজাগতিক পথে
ইতিউতি ছায়াস্পর্শ ঘটে যায় --------
সম্মুখে আলোর উপমা হিসেবে কেউ স্থির
ধীশক্তি নিয়ে জেগে ওঠেন আর
জন্মের প্রান্তে আমার প্রকৃত দূরত্ব থেকে যায় -----
ছবি : বিধান দেব

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন