সোমবার, ২৮ জুন, ২০২১

কবিতা : আবু রাইহান


 এসো আঁকড়ে ধরি 


হায় আমরা কোনোদিন চিন্তা করে দেখিনা, কোথা থেকে আমরা 

                  সচল দৃশ্যমান মানুষে পরিণত হলাম! 

কোনোদিন কী গভীরভাবে নিরীক্ষণ করেছি, একফোঁটা তরল থেকে 

                                 ধাপে ধাপে কিভাবে সৃষ্টির সেরা হয়ে উঠলাম!


আমাদের বিস্ময়কর সৃষ্টি রহস্যময়, তবুও আমাদের 

অন্তর্গত হৃদয়ে জাগিয়ে তোলে না কোনো বিস্ময়!

ঊর্ধ্বাকাশে সাত স্তরের আসমান থেকে চাঁদ ছড়ায় বিশুদ্ধ আলো 

আর প্রদক্ষিণরত প্রদীপ্ত সূর্যের ঔজ্জ্বল্ল্যে নির্বাপিত হয় 

                                                           আঁধার রাত্রির কালো!


সীমাহীন আকাশের দিকে তাকিয়েও নিজেদের অতি ক্ষুদ্রতায় 

                                                   কেন যে কম্পিত হয়না এ হৃদয়, 

তোমার অলৌকিক মাহাত্ম্যের কথা জেনেও আমরা 

                 কেন এত অবাধ্য আর নির্ভয়!

নুহু নবীর কালের মানুষদের মতো আঙুলের বদলে হেডফোন গুঁজে রাখি কানে 

বিশ্বাসীদের বলা অমোঘ সত্য কথন সচেতনভাবে ঢোকাতে চাইনা প্রাণে!

নিকৃষ্ট মানুষের মতো অহরহ প্রত্যাখ্যান করে চলেছি ন্যায়ের বাণী 

প্রাচীন অবাধ্য জাতির মতো  ধ্বংসপ্রাপ্তিকে যেন না টেনে  আনি!


এখন কেবল সংকেতময় ইশারা, সামনে সমাসন্ন 

              মহাশক্তিধরের ক্রোধের মহাপ্রলয়ের প্রবল বৃষ্টি 

ভেসে যাওয়ার আগে এসো  আঁকড়ে ধরি 

                  নূহের নৌকার মতো বিশ্বাসীদের কিস্তি!


এখন জগৎ জুড়ে মহাসমারোহে প্রবল গতিতে প্রবহমান 

                           দূষিত স্ফুর্তির মৌষণকাল 

অথচ আমাদের অজানা নয়, বিশ্বাসী হৃদয়ের জন্য কেবল 

                  গচ্ছিত রয়েছে মহাআনন্দময় অনন্তকাল!


ছায়াময় অন্ধকার


হে আমার সান্ধ্য নদীর বিষন্নতা 

তোমার মুখ জুড়ে কেন ছায়াময় অন্ধকার, আর নীরবতা

রূপনারায়ণের কূলে দূর গ্রামে অস্তগামী সূর্যের 

মায়াময় আলোয় জেগে থাকে কেবল 

                অন্তহীন ভালোবাসার কথকতা!


বারান্দার অন্ধকারে তোমার একাকী রোদনে 

এ পৃথিবীতে বৃষ্টি নামে, তুমি কি তা জানো প্রিয়তমা! 

প্রিয়জনের হৃদয় থেকে চুইয়ে নামে বিন্দু বিন্দু জল

বিশুদ্ধ হৃদয়ে কেবল সঞ্চিত রেখো মহৎ ক্ষমা!


আমি ভালোবাসি সিজদাবনত অশ্রুসিক্ত আঁখি 

তোমার স্বর্গীয় বিশ্বাস জারিত মুখের অনাবিল হাসি!


ছবি : বিধান দেব 



1 টি মন্তব্য:

  1. কবিতা দুটি খুবই সুন্দর। দুটোতেই ভাবের গভীরতা রয়েছে। শব্দ ব্যবহারের গুনে কবিতা দুটি সুখপাঠ্য হয়ে উঠেছে অনায়াসে।

    উত্তরমুছুন