সোমবার, ২৮ জুন, ২০২১

কবিতা : বিপ্রতীপ দে


 পদাবলী গোধূলির 


   দিয়েছিলাম দুঃখ তুমি ফেরাওনি তা,

   দূরের প্রাচীন কথায় আজও ডাকছে পাখি!

   নিরুদ্দেশের মধ্যে যে মন হারিয়ে গেছে,

   সেতার তারে আঙুল আঘাত তাকেই ডাকি!


     মৃত তারার অনেক দূরের একটু আলো,

    আকাশ থেকে কখন এসে ভরেছে ঘর!

    এই রকমই তোমায় ভাবি অন্ধকারে,

    কবে কখন হাত ধরেছে অচেনা ঝড়!


    শুকনো পাতার কষ্ট কিছু লাঞ্ছনাকে

    প্রবল হাওয়া ওড়ায় যখন, নিঃস্ব ক'রে

    নিজের ভেতর একটা বাঁচা ঠিক তখনই

   ঝড়ভাঙা গাছ বৃন্তটি ফুল আঁকড়ে ধ'রে !


    কেমন আছো ওই আড়ালের মধ্যে নিজে,

       জলঝিনুকে যত্ন করে দুঃখ রাখা!

     দেখবে আমায় শেষবেলাতে তাকাও যদি

      ওই গোধূলির আকাশ আমিই রক্তমাখা!

   

  

আলোর গান 


দুহাত পেতে আকাশে চাই নিরাময়ের আলো;

বাতাসে বিষ-নিঃশ্বাসের স্পর্শ আজ ভারী!

তোমার মন আমার মনে যৌথ দীপ জ্বালো,

ভাবো না, ঘন দুর্যোগেই সূর্য হতে পারি!


অশথ ঝাউ দেবদারু আকাশে মাথা তোলা,

অনেক পাখি রেখেছে বুকে মায়ার আত্মীয়!

যে-কোনো ব্যথাবোধের পাশে ফুলের চোখ খোলা

সবুজ গানঃ প্রিভেন্টশন বেটার দ্যান কিওর!


কীসের ভয় দেখাও মেঘ কালো আঁধার বেশে?

বিদ্যুতের ওই আলোর জীবনটুকু চেনা!

নদীতে পোড়া শরীর ছাই,চোখের জল মেশে,

বুভুক্ষার নিয়তি এই বেড়েছে ধারদেনা!


টাইটানিক ডুবছে সেই দৃশ্য কোলাহলে,

ভয়ের চোখে চোখ রেখে বেহালা ছড়টানা!

সব ভয়ের ঊর্ধ্বে আজও সাহস কথা বলে,

তোমার হাত মুঠোতে,ভয়, পেরোবো ঠিক জানা!



চিহ্নিতকে


   আকাশ চেনা তোমার মতো

    সবুজ পাতাটিও,

     'মনখারাপের অন্ধকারে

       অশ্রুফোঁটা দিয়ো!'


      এই কথাটি বললে তুমি

       কখন যেন কবে,

       আর বলেছ মাঠের শেষের

       দিগন্ত কি হবে!


       না-ফোটা ফুল কুঁড়ি তোমার

       চেনা আকাঙ্ক্ষারা,

       অনেকখানি আত্মীয় হয়

        অন্ধকারের তারার!


        যেমন করে ভাবতে আমায়

         আজও কি আর ভাবো,

         দেখবে ধুলোয় ভাঙা মনের

         চিহ্ন রেখে যাবো!


ছবি : বিধান দেব 


   

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন