আকাশ
আকাশ কি উদ্দেশ্যহীন? প্রাণের উদ্দেশ্য?
কখনোই সব কথা বলে না জীবন
জীবনের খিদে থাকে, প্রাণ ও পরিত্রাণ থাকে
তার সদ্ ব্যবহার বিক্রি করে করে মানুষ
প্রাচীন হয়ে গেছে। পুনর্লিখিত সব কথা
মুখে মুখে বলছে মানুষ। বলছে সব
ঘাসে ঘাসে রক্তমাখা স্বপ্নদের বেঁচে থাকা
চুরি করছে কিছু কিছু উল্লসিত ধ্বনি
আমার জন্মই ছিল অধীত মুক্তিতে
তার বেশি দায়ভার আমি তো জানি না
আস্ত একটা আকাশের নাব্যতা শরীরে বয়ে বয়ে
ক্লান্ত অহংকারে কালো হয়ে যাচ্ছে মন, তবু
যা-এঁকেছি বিস্ময়, যা বলেছি আশ্চর্য
যা পেয়েছি---- সবটাই সুন্দর নয়, টেনে ধরা জিভে
একই কথা লিখতে হয়েছে আমায়
যা আমার পূর্ব পক্ষে সঞ্চিত সাগর
যেন নরকের স্তম্ভিত আগ্রাসে জন্মের কৃতজ্ঞ ধ্বনি
আঙুলে আঙুলে দাসত্ব , মনোবীজে খেতাবের লোভ
দূরে দূরে বাঈঘর, ঘোড়াশাল, চোখের শিকার
অবুঝ জঙ্গলে ঢাকা এসব সুপ্ত বাসনা থেকে
যে বালক ঘুড়িটি ওড়ায় আকাশ তাকে কী লেখে?
মেঘের অনেক নীচে আমরা তার কিচ্ছু বুঝি না!
উৎসব
বড় এক জানালার চৌদিকে উৎসব শুরু হয়ে গেছে
নকল সম্ভার ভরা একফালি আকাশের নিমজ্জিত কোণে
হৃদপিণ্ড দখল করে আছে মানুষেরা। মৃত্যুর রং নীল
তাই অতিক্রান্ত দিবসের পর এই সামান্য মায়াবিনী আলো
দুচোখ ভরে নিতে চাইছে মানুষ-পাহাড়।
তমোঘ্ন শান্তির আস্কারা নিয়ে ওই যারা নাচছে
তাদের পেখম ঢাকা পোশাকে ঘোমটা খুলছে বাংলা
সত্যের এ হেন বিভ্রম চমৎকারিত্বের পথে খুব ভালো
তবু একাকী নৈঃশব্দে আমি আজ আলো
না-জ্বালিয়ে
নিজের ভেতরে জ্বলে উঠি।
আলো
বিভিন্ন যন্ত্রণা থেকে আমি কিছু হাফটোন জল তুলে রাখি
কাজে লেগে যায়। দুহাতের অবসরে কখনও বা কালিঝুলিমাখা
সেই জলের অবতার মুখোমুখি হয়। আমি তাকে শান্ত করি
আরেকটু হৃদয় দিয়ে, অথবা আলোর জঞ্জালে জোনাকি ফেলার মতো মেখে নিই তীব্রতর জ্বালা।
আয়ুষ্মান চোখের কী হয়, সহ্যসম্ভব ফাল্গুনে দাঁড়াতে পারে না, তখন সে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছোটে, উপমার লাশ বয়ে বয়ে, সন্দিগ্ধ কপালে রাখে চুমোর পর্বত। তারপর স্নিগ্ধ হতাশায় সফল মিলন শেষে কাঁদে। যত গান এই পাওয়া, পেয়ে হেরে যাওয়া
সময় দুহিত অন্ন সৎকার প্রবণ, ভেঙে যাওয়া আগুনে হঠাৎ জেগে ওঠে, দাঁড়িয়ে যায়, শোকার্ত সঙ্গীরা ভুলে যায় হাততালি দিতে। শিস দেয় সুরশ্রী তারা আর ঠাণ্ডা কীট,
আমি নম্র আবদারে প্রার্থনা করি হাওয়ায় সামান্য কিছু রাখো, কৃতজ্ঞ করো, আগুন জ্বালাতে যদি হয় আগে জ্বালো।
সীমানা পাথর করে বিস্ময়মুখর সব চোখ পরাজয় কাঁধে তুলে নেয়, এবার যে যার ঘরে শব্দ নামাবে, তারপর মৃত কিছু হাড়গোড় অক্ষয় পূর্ণিমায় চাঁদের পায়ে বাঁধবে বীরের ঘুঙুর। সমুদ্র চাইবে কলরোল বেঁধে দেওয়া গানের কঙ্কাল।
আমি গলাতে দুহাত রেখে ভাবি, সুরেতে পূর্ণ আছে তো?
নইলে আলোকে কী দিয়ে সরাব পাথর থেকে, যদি সে ভেঙে যায়!
বিনত পুষ্প ও সান্ধ্য নির্জনতা
গা-ঘেঁষে থাকা বিকেল যেন একটি পরিবার। কম কথা তার
যেন এক্ষুনি ফুরিয়ে যাবে দিবসের মতো, যেন সে প্রণত পক্ষী
মৃত্যুর আগেই জেনেছে মৃত্যুকে। অতএব থামতে হয়
আকাশে কলঙ্কঢাকা ব্যাধ দুঃস্বপ্নের সাগর মাথায় নিয়ে যায়
তার অনুসরণের পথ পদ্ম-পলাশে মোড়া, সে ভ্রমণে সময় এমনভাবে ছোটে তাকে গতিশীল কাক মনে হয়
তোমার নিভে যাওয়া দরজার চোখ খুলে গেছে, মাথায় বিশ্বস্ত দাস-দাসী। তারাই তাতিয়ে দিচ্ছে,
জিহ্বা সুন্দর কোনও শোকে পড়িয়ে নিচ্ছে শুদ্ধ পুরাণ। কত না-জানা দিয়ে ব্যাখ্যা হচ্ছে তাদের।
ভূবৃত্তের হাওয়ায় হাওয়ায় জড়ো হচ্ছে বিনীত পুষ্প ও সান্ধ্য নির্জনতা। আমি হাত বাড়িয়ে রাখি
কিছু কিছু সাহাস্য পাথর তাদের আত্মসম্মান রেখে যায়।
সেটুকুই সম্পদ আমার। সমর্পণ করি। তুমি একটি নিবেদিত রঙে ডুবে আছ। অপেক্ষা করি রাত্রির সুবিদীর্ণ কোলাহলে। যেন স্রোতাচ্ছন্ন আত্মারা পরম শান্তিতে ঘিরে আছে আমায়। আর একটু পরেই প্রত্যক্ষ হয়ে যাবে সব ততটুকু দৃষ্টির সমত্ব নিয়ে, যা দিয়ে আবার আমি সবার অলক্ষে চলে যাব
ছবি : বিধান দেব

অসাধারণ।
উত্তরমুছুন