শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

গুচ্ছ কবিতা : শীলা বিশ্বাস


 

সুতলি


হাত ক্রমশ লম্বা হতে হতে সুতলি হয়ে যাচ্ছে আর অনায়াসে ছুঁয়ে ফেলছি হরপ্পা ও হলিউড। লাহোর-মূলতানের রেলপথ থেকে ইঁট তুলে হরপ্পা সভ্যতা পুনর্নির্মাণ করছি। সময়কে ওয়ার্প করে উলটে পালটে দেখে নিচ্ছি বিবর্তন। চ্যাপলিনকে রেখে এসেছি গল্প হলেও সত্যির স্ক্রিপ্টে আর রবি ঘোষ অনায়াসে চলে গেলেন সিটি লাইটস -এ। একটি জন্ম আরো একটি জন্মের ভিতরে ফুঁ দিয়ে দিয়ে জ্বালিয়ে দিচ্ছে আঁচ।

 

শৈশব থেকে আমৃত্যু কসমেটিক অস্ত্রে আমরা বদলে নিচ্ছি মুখ। শেকড় উপড়ে নিতে চেয়ে গোড়া থেকে ছিঁড়ে ফেলছি আমাদের সংগ্রামের ইতিহাস ও যৌথ খামার। বন কেটে বনেটে এঁকেছি বিসমিল্লাহ্‌। গুটিয়ে নিচ্ছি আস্তিন আর ধরা পড়ে যাচ্ছে ভোজবাজী। বিটুমিনে ঢেকে দিচ্ছি শুঁড়িপথ । খালি জলসত্রের পাশে ঝোড়ো কাকের মতো দাঁড়িয়ে স্বপ্ন দেখছি ইরাবতীর জলধারা ।

 

অসময়ের জন্য জমানো দানা মুখে কিলবিল করে মানুষ বেরিয়ে আসছে পিঁপড়ের মতো মাটির গর্ভ থেকে। একটা সময় আরও একটা সময়ের ভিতরে খাপ খাইয়ে নিতে পারলেই আয়ুরেখা বরাবর জন্মান্তরবাদ লিখে দিচ্ছে অবিন্যস্ত আঙুল। বিদুরের খুদ নাকি কুবেরের ক্যাপুচিনো তর্কে মেতেছি। স্বর শুনে বুঝিনি রাম না মারীচ কন্ঠ। পাকিয়ে যাওয়া নিজেকে খুলতে খুলতে এক দুর্যোগের রাত্রি পার হয়ে যাচ্ছি সময় তোমার সঙ্গে…। 


ছবি : বিধান দেব 


১১টি মন্তব্য:

  1. ভীষণ ভালো লাগলো।১সবচেয়ে বেশী

    উত্তরমুছুন
  2. মিক্সিং খুব ভালো লাগল। সমাধুনিক কবিতা পড়লাম।

    উত্তরমুছুন
  3. 'পাকিয়ে যাওয়া নিজেকে খুলতে খুলতে এক দুর্যোগের রাত্রি পার হয়ে যাচ্ছি সময় তোমার সঙ্গে'। দুর্যোগের রাত্রি পেরোনোর আশাব্যাঞ্জক এ উচ্চারণ উজ্জীবিত করে আমাদের। ভালো লাগলো।

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। আমার শ্রদ্ধা জানবেন দাদা ।

      মুছুন
  4. কবিতার কোনো হাড়গোড় অশিল্প থাকে নি। কবিতার হাড়গোড় সবসময় র্যাটল স্নেকের হেঁটে যাওয়া। এটা দেখতেই শীলার কবিতা পড়া।

    উত্তরমুছুন
  5. অনেক ধন্যবাদ দেবযানীদি। ভালোবাসা নিও ।

    উত্তরমুছুন
  6. খুব ভালো লাগল। লেখিকার ইতিহাস-চেতনা ও বলিষ্ঠ
    কাব্যভাষার নির্মাণ মুগ্ধ করল।

    উত্তরমুছুন
  7. আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই । ভালো থাকবেন ।

    উত্তরমুছুন