মায়া
এক বুক গলাজলে দাঁড়িয়ে আমি
প্রথম অনুধাবন করলাম,
যাকে আমি মহাসাগর ভেবেছিলাম
সে আসলে আদিগন্ত বিছানো মরুভূমি।
আমি তাই গাছ হয়ে যাই,
জল হয়ে যাই,
মরুদ্যান হয়ে উঠি
ওর ফুসফুসে বাতাস ভরে দিতে।
মায়া।
এ পৃথিবীতে মায়া বড় ভীষণ জিনিস।
মোহ
গান ফুরিয়েছে যবে
তবে পিঞ্জর নিয়ে আর
টানাটানি করে লাভ নেই--
যাও পাখি,উড়ে যাও
আজ তোমাকে মুক্তি দিলাম।
মুঠি ভর্তি দানা পানি দিয়ে।
এই গাছ,শীতল হাওয়া,
সূর্যাস্তের শেষ রাঙা রাগ,
সব তুমি নিয়ে যাও।
যা তুমি দিয়েছিলে
সেটুকুই কেউ আর কখনো
দেয়নি আমাকে।
আমি ভিখারি,
কাঙাল --
কারো প্রতি কোন অভিযোগ নেই
আমার এই পৃথিবীতে।
দাও দাও এবার বিদায় দাও
এ মোহ মায়ার।
একাকার
রাতের কুহক শেষে
মঙ্গলকাব্য রচিত হয় দিনের বেলা।
স্নেহ মায়া মমতা
পবিত্র পবিত্র।
যারা দিন রাতের তফাৎ বোঝে না
হায় তারা বোকা।
বোকা মেয়ে পৃথিবীতে কত্ত আছে,
যারা শিরা কেটে
ঘুমিয়ে পড়েছে একা একা।
আমি বেঁচে গেছি ঝরনা কলম
দিন নেই রাত নেই
সব একাকার
সাদা খাতা।
উত্তরাধুনিক
একমুখীনতা বলে
হয় না কিছুই,
ক্রমে এই উপলব্ধিতে
পোঁছলাম আমি।
শুধু হাত!
তার জন্য এত আকুলতা?
কি আছে ওতে?
মদের গেলাস থেকে
নিকোটিনে মুড়ানো কাগজ--
তার মধ্যে তুমি নৌকো
জায়গা পেলে কি পেলে না
ওকে আর জ্বালিয়ো না--
ওর অনন্ত সুখ থেকে
এক ফোঁটা উপচে পড়েছিল ওই গায়ে,
তুমি তাতে সর্বস্ব দিয়ে আরাধিকা হলে,
সেটা তোমার দোষ।
তুমি আধুনিকতার কোন সংজ্ঞা জানোনা।
বেহিসাবি
তুল্যমূল্য বিচারে
এ পৃথিবীতে কিচ্ছু আসেনি।
তুমি ভালোবেসেছ,তুমি দিয়েছ
এই মাঠকে,এই নদীকে।
সে-ও তোমাকে ফিরিয়ে দেবে কিছু।
কিন্তু কি দেবে,কতটুকু দেবে
সেটা তার নিজের হিসেব।
দেওয়ার আনন্দ শিখিয়েছে তোমাকে যে প্রকৃতি
তার কাছে তুমি শুধু নতজানু হও।
অন্তর্লীন
কি দরকার তোমাকে আমার,
তোমার প্রতিটি অক্ষরমালা আমি সঙ্গে নিয়ে ঘুরি।
কি দরকার তোমাকে আমার,
তোমাতে অন্তর্লীন ভালোবাসর স্রোত
আমাকে ঘিরে রাখে অবিরত,
পারিপার্শ্বিক বলয়ে।
তুমি সুর দাও,সুর দাও,সুর দাও,
যা কিছু মাধ্যম স্বচ্ছ হয়ে ওঠে
কাচের মতই। ক্রমশ।
নিবেদন
তুমি কি জানতে পেরেছিলে এই ধারা?
টের পেয়েছিলে?
ঠিক এই ভাবেই লুক্কায়িত আছে তোমার
আরো সম্ভাবনা।
যদি লেখাটাই কাজ হয়,
তবে লেখো।
আর কিছু নিয়ে তুমি
ভেবো না,ভেবো না।
এই পথ বেয়ে দেখবে
আসবে তোমার কাছে প্রেম
সুধাময়। মায়াময়
এই পৃথিবীতে।
সব দিতে হবে,সব দিতে হবে।

খুব ভালো লাগলো । মোহ কবিতা, মুগ্ধ করলো । শুভ কামনা অফুরন্ত ।
উত্তরমুছুন