রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

কবিতা: দেবাশিস মুখোপাধ্যায়

 


পাগলাগারদ কোথায় আছে


১.

ভোরের দরজা খুলতেই বেজে ওঠে সরোদ 

মাটির কাছাকাছি পিঁপড়ের বাসা

ঘাম ঝরানো

পা - কে চিতায় পেয়েছে


একটা শনিবার আসলেই মাংসের

গন্ধ আমোদিত

প্রাচীর ভাঙার পর দাঁত কেটে নেয়

আগুন ফেরত সেইসব স্মৃতি

কোনো গল্পই শেষ পর্যন্ত বিশ্রাম পায় না 

প্রাচীন সভ্যতা এখনও লালন শেখায়



২.

একটা বিছানা কখনো নিমগাছ 

রাত্রি টুকে নেয় 

মুখোশের ইতিকথা

দেয়াল সামলাতে পারে না 

চুনসুরকির খসে পড়ার ভিতর

একটি অসামান্য চিত্র ঢুকে পড়ে

আর একটা জানালা খোলা জামায়

চাঁদ লেগে যায় 

কিছু ফোটা দৃশ্যের ভিতর তুমি 

খেলে যাও জোনাকি জীবনে

আসলে অন্ধকার কিছুক্ষণ থমকে দাঁড়ানো তারপর ফিরে যায় ভোরের চাহিদায় 

প্রাথমিক তিক্ততা সরে কখন মধুর

ধুন বাজতে থাকে 

নিজের ভিতর সোনা কখন উথলে ওঠে বাহবা পাতানোর পর




৩.

জানালা শ্রাবণ হলে চোখের অসুখ সেরে যায়

সারাদিন নূপুর পরে নেয় 

না বেরনো কথাগুলো কখন সংগীত

কানের অভ্যাস গড়ে ওঠে ক্রমশ

অশ্রু লিখতে ভুলে গেলে গড়িয়ে নামে হাসি

সিনেমার মতো অমলিন

একটি দীর্ঘ কবিতা কখন এলাকার দখল নেয়

তারপর ডাকবাক্স শীৎকার তোলে

রাখালের ঘুম ভিজে যায় 

বাঁশিটিও

শহর ছাড়িয়ে এই পৃথিবী 

মৃত্তিকার রূপ ছড়িয়ে পড়তে দেখে



ছবি: বিধান দেব 




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন