নিষ্কামী
তুমি ঠিকই জানো, তোমার তো জানারই কথা
আজ অনেক লিঙ্গের মাঝে বিপন্ন আমি
অথচ এই লৈঙ্গিক পরিচয় ছিল আমাদের খেলা
আমরা যখন পানির পিচ্ছিল ঘাটলায় জেগে উঠছিলাম
যখন আমাদের ছিল প্রোটোজোয়া কাল
তখনো হয়নি শুরু আমাদের হ্যাপ্লয়েড বিভাজন
শরীরের মেয়োসিসগুলো তখনো ছিল মাইটোসিসের সাথে
আপন কোষের আড়ালে আমরা তখন স্বমেহনরত
সেই তো ছিল আমাদের সম্পূর্ণ আনন্দের কাল
তুমি বা আমি; আমি বা তুমি- এর কোনো লিঙ্গান্তর ছিল না
তখন আমরা ছিলাম, সম-বিষম-উভকামী
আমাদের শয়ন, উপবেশন কিংবা পদব্রজ
হিমালয়শৃঙ্গের গলিত তুষার-তরঙ্গের সাথে
পতিত হয়ে তোমাকে তুলে নিচ্ছিলাম কোলে
কখনো তুমি নিচে, কখনো আমি
শরীরের ভারে নুব্জ, আবার জরায়ুতে গেছি মিশে
হয়তো এসব তুমুল উত্তুঙ্গু মিলনের কালে
আমার সুপ্ত অহংকার তোমকে হারিয়ে ফেলেছিল
যদিও চন্দ্রিমা রাতে আমরা কাছে এসেছিলাম
যদিও আমরা হারিয়ে ফেলেছিলাম অন্ধকার গুহায়
তবু দিনের আলো আমাদের মিলতে দেয়নি
অথচ এখনো যারা তাদের লিঙ্গকে পারে চিনতে
তারা হয়তো সমকামী, তারা হয়তো এখনো আছে
ঈশ্বরের উদ্যানে
তাদের অযৌনজনন, পক্ষপাতহীন মিলন
কেবল মিলনের আনন্দের তরে
কিন্তু যে আমি তোমাকে হারিয়ে ফেলেছিলাম
হয়তো শরীরের চিহ্ন রেখায় ছিল দৃশ্যত অমিল
সেই তুমি যখন আমার সঙ্গে মিলিত হও
তখনই তো আমি হয়ে উঠি অভিন্ন পূর্ণ মানুষ
তখন আমরা পরিণত হই নিষ্কাম কর্মে
তখন দৃশ্যত কামের আড়ালে পারে না দেখতে
আমাদের বিভাজন রেখা
লাশ নামাবার গল্প
প্রথমে আমার দেহ কবরস্থ করেছিলেন আমার পিতা
নিজের আনন্দে রেখে এসেছিলেন কোনো এক মহিলার প্রকোষ্ঠে
সে নারীও বেশিদিন পারেননি করতে বহনের যন্ত্রণা
অসংখ্য লাশের সঙ্গে আমাকে করলেন সমাহিত
একদিন সেইসব মৃতদেহ আবার আমায় ধরাধরি করে
শুইয়ে দিলেন মৃত্তিকার গর্ভে
একটি গর্ভ থেকে আরেকটি গর্ভে, একটি কবর থেকে আরেকটি কবরে
পিতাদের অনুগামী হয়ে পুত্রদের আগেই আমি কবরে ভ্রমণবিলাসী
আমার হাতে ধরা কবিতার পাণ্ডুলিপি, ভ্যান-ভিঞ্চিদের চিত্রকর্ম
বিশ্বখ্যাত স্থপতিদের সমাধিস্থল সাজাবার কলা
আর আমাদের ঈর্ষা, খ্যাতিমান হওয়ার কৌশল
কিংবা রূপবদলের তাড়না
গিলোটিনে যেসব শরীর হয়েছিল দু’ভাগ
ফাঁসির উদ্বন্ধন নিয়েছিল কেড়ে যাদের বাতাস
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর- তারা এখন হেঁটে যাচ্ছে
আরেকটি কবরের দিকে
বলাৎকার কিংবা প্রেমের প্রস্তাবনা তো একটি কবরের
অনুসন্ধান ভিন্ন নয়
আমাদের পৃথিবী কেবল লাশ নামাবার গল্প।
ছবি: বিধান দেব

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন