বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০

রনি অধিকারী


 


 জীবন যেখানে যেমন


 অভিনয়ের আড়ালে ঢাকা এ আমার বন্দি জীবন!

মূলত আমি কোথাও যেতে পারি না, কিছুই করতে পারি না

হাত-পা শেকলে বাঁধা, ভাব করি যেন এক মুক্তবিহঙ্গ...

এমন ফুরফুরে মেজাজে হাঁটি, যেন কোনো শেকল নেই পায়ে।

দু’চোখ থেকেও আমি অন্ধ! কিছুই দেখি না 

এমনভাবে চোখের পলক ফেলি, সবাই ভাবে- দেখছি সবকিছু,

আমি কিছুই বলতে পারিনা, যা কিছু উচ্চারণ করি

তা সবই শেখানো বুলি, যাত্রাপালার অভিনয়ের মতো

আসলে কেনো বাক্যরচনা করবার ক্ষমতাই আমার নেই! 

 

অভিনয়ে বড় বেশি পাকা আমি! একটা লাশ হয়ে হেঁটে বেড়াই

বোঝে না কেউ, চিমটি কেটে দেখে না কেউ,

বেঁচে আছি নাকি মরে গেছি!

আমি দুঃখ পাই না, কোনো সুখানুভূতিও আমার নেই 

কেননা মরা লাশের বন্দি জীবন আমার...

শুধুই ঘুরপাক খাই সাড়ে তিন হাত বন্দি পরিখায়!

 

 

 কবির ক্যানভাস


 কবির হাত যেন জলের অক্টোপাস, নক্ষত্রের নৃত্যকলা

সে রহস্যের চোখ জানালায় ভিড় করে...

বাতাসে অজস্র পেপিরাস ওড়ে,

কালির প্রলেপ পড়ে ধূসর খাতায়-

আজ কলমের অন্তরালে কবির অস্তিত্ব , হৃয়ের হাত

অতঃপর কবির ক্যানভাস । 

 

 

 আমার বিভ্রম


 মাঝে মাঝে বড়ো ভুল হয়ে যায়

জল ভেবে আমি কাচ হাতে ছুঁই।

হাত কেটে যায় বুক কেটে যায়, রক্ত ঝরে

তবু যেন চেয়ে থাকি অবিনাশী চোখে।

 

চারিদিকে শুধু রক্ত হাত-বুক-দেহে

অনিন্দ্রায় দিন যায় আমার বিভ্রমে।


ছবি: বিধান দেব 

 

 

 

 

 


 

 

 

 

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন