বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০

অরুণ পাঠক




                              

 ভুল 


ভুল হয়ে পড়ে আছি। আরেক আশ্চর্য এসে তুলে নেবে ঠিক।  গহীনে তো সবই সমান। ওপরের তুচ্ছ কম-বেশি, সাধু ও ডাকাত--- এক ক্ষমাসনে বসে। তাই এই বাক্যের শরীরে পুঞ্জীভূত স্তিমিত তারায় ভরে আছি জোনাকির মতো। এই এক মাতৃদেশ, অতুলন ধরিত্রীর যেটুকু বিস্ময় ধরে রাখি, সেটুকু সঞ্চয়।  স্পৃহা কি গর্বের মতো? আলোতে-বাতাসে আর বেড়ে ওঠা ধ্বংসের কিনারে সমর্পণ?  জমিয়ে রাখার নেশা সাধুগিরি নয়। শাসন তো ভোলা ময়রাও পারে। আমার অর্জন শুধু আশ্চর্যকে বলা। আমার জীবন শুধু সংগীতের বিধি, আমার জীবন শুধু ছবির রেখারা। বার বার সেধে তোলো সুর বার বার সেরে তোলো রং। ওই বিদ্যুৎচমকে সিদ্ধ পরিযায়ী বিন্দু আমি আকাশের। ওই আত্মগোপনের পরিভাষা আপেক্ষিক সামাজিক আলো মুছে দেয়। তাই দড়ি হয়ে পড়ে আছি সাপ, জ্ঞান হয়ে নিজের ছোবলে।


দূরে


তোমার প্রকাশ থেকে আমাকে বিচ্ছিন্ন করো। গতির দুঃস্বপ্নে আমি একা নই পথের রাবণ। দানবসুখের রাজ্য পড়ে থাক। আমি চক্রে বিদিত উন্মুখ নিয়ে বসতে চাই জলসজ্জার বিস্তারে। কথা মুখ পার হয়ে নতুন ঊষায়। চিরকালই আকাঙ্ক্ষায় নেমে আসা তোমার খেলায় পরাঙ্মুখ দেবতারা তুলে ধরে সবুজ আশিস। পূর্ণ হতে থাকি। স্বাতন্ত্র জাগে। দিগন্তের কল্পতরু হাত নাড়ে। আমি প্রকাশিত আকাশ-শাবক থেকে আমার পা-দুটি তুলে নিই। সামাজিক তৃষ্ণার অভয় থেকে দূরে স্বেচ্ছাচারী মেঘের বিছানায়। 


মানুষ যতটা উঁচু 


আনন্দ পাঠানো স্রোত পেঁচিয়ে ধরেছে। কান্না ও হাসির গাছ পরস্পর দাঁড়িয়ে আমার উঠোনে। সব ফুল আমার মাথায় রেখে যাবে। বেঁচে থাকা বিষাদ গলানো মোম। জ্বলে ওঠে। ফুঁ দিয়ে নেভাই। জ্বলে ওঠে। আপন ভায়ের মতো বিগলিত নদীর স্বভাবে কেউ রেখে গেছে মানপত্রখানি। সব সাধুকথা পৃথিবীর ভরের সমান। তা কখনও আমার হবে না। আমি শুধু পুলকিত গাছের পাতায় যে হাওয়া এসে লাগে, তার একটা নিগূঢ় নয়ন খুঁজে পেয়ে মনে মনে শের হয়ে আছি। নেচে ওঠা মন দুচোখ সহানুভূতি নিয়ে বেশ খানিকটা ঘুরে এল। তরঙ্গ-নিস্ফল আমি অপেক্ষারত। এতটা নির্দয় আমি প্রভাত রক্তিম করে দিবস পাথর হয়ে আছি। শস্ত্রের বিশদ মালায় এত মায়ামেঘ তবু দিগন্ত পেরোতে গিয়ে দেখি বৃষ্টি আটকে আছে সীমান্তের পারে। মানুষ যতটা উঁচু ততখানি। 


ছবি: বিধান দেব 


1 টি মন্তব্য: