বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০

শান্তনু প্রধান


 

ঝাপসা চশমার কাঁচ


আমি সেই দ্বিপ্রহরের জ্বর

আমি সেই থেঁতলানো জড়িবুটি ছিপছিপে সরল

আমি সেই তোমার আঁচল সরিয়ে

নোনা বালিতে ছড়িয়ে থাকা হিমোগ্লোবিন

কখনো বলিনি কোনও দিন

পরিত্যক্ত পোশাকের উপর  সংরক্ষিত ছিল প্রাথমিক পাঠ


আমার ক্ষতবিক্ষত আত্মদীপ থেকে যারা সরে গিয়ে

বেনি বাঁধতে বাঁধতে গুঁজেছ কৃষ্ণচূড়া

তাদের কি কোন সংশোধনাগার বলে কিছু আছে

নাকি সবটাই আইবুড়ো ত্বকের পান্ডুলিপি

এইসব দেখা এবং না দেখা মেহনত

কাদের আর্তনদী বাঁকে স্নাত


নির্বিকার ফুটোর ভেতরে বহুবার ঢিল ছুড়েছি

একবারও না বেজে শুরু হয়েছে অজাত উৎপাত

ঢিলেঢালা পাঞ্জাবির ফাইনাল প্রুফ দেখতে দেখতে

ফিরে যাচ্ছি প্রাগৈতিহাসিক ঘুমের বর্ণমালায়




এই বেশ আছি


আমার বৃষ্টির ভেতর জন্ম 

নিয়েছিল একটি চাঁদ

আমার কষ্টের ভেতর জন্ম দিয়েছিলাম একটি সূর্যের

চাঁদটি যে কখন ফাঁকি দিয়ে উড়ে গেল কেউ টের পাইনি

শুধু তার ছায়াটুকু চিলেকোঠা জুড়ে ফুটে আছে

অথচ সূর্যের শরীর থেকে খসে পড়া পারদ

ধীরে ধীরে পুড়িয়ে দিচ্ছে চিলেকোঠার নিভৃত ছায়ার ব্যাকুলতা

এই উভয়ের মাঝখানে বেড়ে ওঠা জলে গ্রাম্যসংঘাত

উবু হয়ে বসার আগেই নৌকোর একটি দাঁড়ে টিপ দিয়ে

ক্রমশ তলিয়ে যাচ্ছি

ততখানি ভেসে উঠছে আমার বাল্যকাল

আসলে ছেলেবেলায় আমার মা শিখিয়েছিলেন পূর্ণচ্ছেদ

খানিক পরে বাবা দেখিয়েছিলেন কমা কাকে বলে

তারপর অনেক সাঁকো পেরিয়ে আশা আমার বউ

বুঝিয়েছিলেন এই পূর্ণচ্ছেদ ও কমার মাঝখানে বসে থাকা একটি দৈত্য

এখন মেয়ে আর ছেলে সেই দৈত্যকে প্রতিদিন ভেঙে ভেঙে

সানফ্লাওয়ার দিয়ে  ভেজে জলে ভাসিয়ে দেয়




নিঃসঙ্গ যাপনের স্বরলিপি



এপারে গান ভেঙে এলে

ওপারে তুমি খুঁজে পাও বৃষ্টির স্বরলিপি

হয়তো তাই সুদীর্ঘ নির্জনতা খুঁটে আনে

ঘনীভূত মেঘপড়শীর নিখুঁত সম্ভ্রম


গান ভেঙে যাওয়ার খানিক পরে

নক্ষত্রদের পায়ে নুড়ি হয়ে ঝুলে পড়ি 

ঝুলতে ঝুলতে কুয়াশার সমীকরণে রাখি

ভ্রমণবৃত্তের ছায়া ও কিছু শ্রাবণের ধারাপাত

তুমি চাইলে পারো খানিকটা জিরিয়ে নিতে

কিংবা চাইলেই পারো দ্যুতিময় বর্ণের পাজরে

বিঁধে দিতে তীক্ষ্ণ নখ

অথচ দেখো মাঞ্জা করা ঘুড়িটি তার লেজ হারিয়ে

লাট খেতে খেতে পেরিয়ে যাচ্ছে ধান জলা

আর সেই ধান জলাময় ছড়িয়ে পড়ে আছে

আমাদের নিঃসঙ্গ যাপনের অবিভক্ত স্বরলিপি 

উত্তরণের ক্রুশকাঠ


চোখের আলিঙ্গনে স্লোগানসিক্ত সূর্য ওঠা

ঘাসে ঘাসে ছড়িয়ে রাখে মৃদু সকালের মরচে পড়া তর্জনী

সময় মত ভেঙে যায় অযৌন আহ্লাদ

সার্বভৌম চোখ চিরে জলের বারুদ

প্রতিধ্বনিত পুরুষ ফড়িং-এর ডানায় দেখতে পেল উত্তরণের ক্রুশ


হেমন্তের লতিতে লেগে আছে ব্যথাহীন নিঃশ্বাসের হলুদ তরল

নিষেধ অন্ধকারের ফুটোয় বেজে উঠছে কাদের জীবন

ভারাক্রান্ত স্মৃতি বিবাহযোগ্য ঘাসফুলেও সুখী নয়

অত্যাচারীদের ভগ্ন রামধনু রাংতায় মোড়া কুয়াশা ভেদ করে

উড়ে যাবে বলেই এলো চুলে বিঁধে আছে আজীবনের বিষন্ন বাতাস

সেই অসুখ নদীটির ফুলশয্যার স্বরলিপি আমি জানি না

পাহাড়ের মগডালে বেজে উঠছে তারই অবিক্রিত অন্ধকার

সেই সরলমতি অন্ধকারে শিউরে ওঠা স্পন্দন

অতীত ঐতিহ্যের সিঁড়ি বেয়ে ভাঙা আয়নায় লেগে থাকা

চাঁদের কুমকুম টিপ নিয়ে যায় আরো উপরের সমাবেশে

কেন নিয়ে যায়

শেষ অবধি  ক্লাউনের চোখের আলিঙ্গনে স্লোগানসিক্ত সূর্য ওঠা

দখিনের খোলা জানালা দিয়ে ডুবে যাবে স্বাস্থ্যবতী

1 টি মন্তব্য: