পোষা মোরগের মতন এক একটা দিন
উদ্ধত ছুরির নীচে গলা দেয়!
ছুরি তাকে আড়াই-পোঁচে হালাল করে।
গভীর রাতে ঘুমন্ত চোখ রগড়াতে রগড়াতে
আমরা, ভাইবোনেরা, উজ্জ্বল পাতের পাশে
গোল হয়ে বসি,
বহুকাল পরে পাতে মাংস পড়বে আজ।
সেই-ই আমাদের আমিষবাহিত রাত!
সজনেডাঁটার গন্ধ-সুরভিত তুমি, তুমিই ছিলে
আমার অধিষ্ঠাত্রী, অর্চনা করতে গিয়ে
আগুন লেগেছে গায়। এবার উন্মুক্ত করো
গভীর বনপথ তোমার। দাবানল হয়ে ঢুকে পড়ি
যতটা খননে যাওয়া যায়। একসাথে পুড়ি,
আর নিভে যাই সব জাতিভেদ প্রথা
নির্মুল করে।
আমাদের আমিষবাহিত রাত্রিগুলি যেন
সহসা সমাপ্ত না হয়।
উদ্বাস্তু
এক পশলা বৃষ্টির পর, তোমাদের দিঘি
শান্ত হয়ে যেত। দিঘিতে ফুটে ওঠা লাল শালুক
আরও ঝলমলে। ঘোষিত নাস্তিকজনও
কীভাবে যেন ঠিক
ঈশ্বরের দিকেই এগোয়! আমার কোনও
ঈশ্বর ছিল না, দিঘির জলে প্রতিবিম্ব
খুঁজতে গিয়ে
লাল শালুককেই ঈশ্বর মেনে এসেছি।
কখনও কেউ একজন তর্জনী তুলে প্রশ্ন করবে
নির্মীয়মাণ বহুতল, নাকি একফালি নদীতীর?
আমি শুধু জানি---
বহুকাল হল লাল শালুকেরা উদ্বাস্তু হয়ে আছে।
অস্তিত্বের ক্ষত
ভেঙেচুরে প্রসারিত করেছি,
সেটুকুই উপহার দিয়ে যাব। অস্তিত্বের ক্ষত থেকে
জাগ্রত যে প্রদীপ
ঝড়কে শাসনে রাখে, তাকেও বলেছি---
প্রস্তুত হয়ে থাকো। কথা বলো, কথা বলো
লুপ্ত জনপদ। ভাসতে ভাসতে এই
আমরাই একদিন
দাঙ্গাহীন সারিসারি শহর গড়ে দেব।
ছবি: বিধান দেব

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন